//

ছাত্রদলের শীর্ষ পদে ঢাবির বাইরে এত কম কেন?

31 মিনিট পড়ুন
  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • ১৯ জুন ২০২৪
ছাত্রদলের শীর্ষ পদে ঢাবির বাইরে এত কম নয়? – ফাইল ছবি

 

গত ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি করেছে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কমিটিতে দেখা যায় শীর্ষ পদ ও সহ-সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদের প্রথম তালিকায় ২৪ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। বিষয়টি নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। ঢাবির বাইরে যোগ্য সম্পূর্ণ নেতা নেই- এটি মানতে নারাজ অনেকে। অনেকে বলেন, এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নির্বাচিত ভিপি, বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ছাত্রদলের শীর্ষ পদ সভাপতি হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

নবগঠিত ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অনেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।  বুয়েট, চুয়েট, মেডিকেল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জেলা মহানগরে নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে একজন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন, ঢাকা কলেজের একজন, ইডেন মহিলা কলেজের একজন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজনকে পদ দেয়া হয়েছে।

গত ১৫ বছরে সরকার পতন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাবি ছাত্রদলের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো অবদান না থাকলেও ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় বলয়ের হাতেই রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে অনেক নেতাকর্মী।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ছাত্রদলের এক পদবঞ্চিত কেন্দ্রীয় নেতা জানান, গত ১৫ বছরের সারাদেশে ছাত্রদলের ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী রাজপথে নিহত হলেও ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে একজন ছাত্রদল নেতাকর্মীও মারা যায়নি। শহীদ হয়েছেন ঢাকা মহানগর, জেলা ও অন্যান্য বিশ্বিবদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এমনি সুপার ফাইভের কমিটিতে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) শরিফ প্রধান শুভ সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

 

নবগঠিত কমিটির ১৪তম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক শিমুল ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘কিছু বিষয় জরুরিভাবেই আলোচনার দাবি রাখে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রথম ধাপে সাতজনের পদ ঘোষণা করা হলো। সুপার ফাইভের সাথে দুজন গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদক। বলাবাহুল্য, সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঢাবির বাইরের কারো সুযোগ হয়নি এখানে।’

তিনি বলেন, ‘যে কমিটি ঘোষণা করা হলো, এখানে সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ছাত্রনেতাদের মাঝে ১২তম স্থানে জায়গা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আউয়ালের। অর্থাৎ, সুপার পদের বাইরেও সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদক মিলিয়ে প্রথম ২৪টি পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কারো জায়গা হয়নি।’

গুরুতর বিষয় হচ্ছে, এই ২৬০ সদস্যের কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতারও ঠাঁই হয়নি! ঢাকার কয়েকটি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পদমর্যাদা দেয়া হয়েছে, তাহলে এই দুটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় কি অপরাধ এমন প্রশ্ন ছুঁড়েছেন অনেককে। বুয়েট থেকে একাধিক ছাত্রনেতা কেন্দ্রে নিয়মিত ছাত্রদলের রাজনীতি করলেও তাদেরও কারো স্থান হয়নি কমিটিতে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়া নামে একজন লিখেছেন ‘কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহব্বায়ক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক!’ এ বিষয়ে সত্যতা মিলেছে। এছাড়া যেখানে ত্যাগীরা বঞ্চিত, সেখানে হঠাৎ করে উদয় হয়ে সহ-সভাপতির শীর্ষ পদ পেয়েছেন। শীর্ষ ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজন বলেই এমন হয়েছ- অভিমত অনেকের।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে পদায়নের বিষয়ে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা প্রটোকল অনুসরণের কথা বললেও ঘোষিত কমিটিতে সেটি মানা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খুরশিদ আলম সোহেলকে ৭ নম্বর সহ-সভাপতি করা হলেও কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতিকে সোহেলের উপরে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া গত কমিটির এক নম্বর সদস্যকে যোগাযোগ সম্পাদক করা হলেও ৩ নম্বর সদস্যকে করা হয়েছে যুগ্ম সম্পাদক।

 

এছাড়া ছাত্রদলের কমিটিতে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, দোকানদারসহ বিতর্কিত অনেককে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে জানান, এভাবে চললে কেউ এই দুঃসময়ে ছাত্ররাজনীতিতে আসবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে কেউ কেউ বলেন, আর ছাত্র রাজিনীতি করব না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্মে কর্মী সঙ্কটে পড়বে সংগঠনটি।

 

আগামীতে একটি ক্যাম্পাস বলয়, স্বজনপ্রীতি, সখ্যতা , হঠাৎ করে উদয় হওয়া, ‘মাই ম্যান’ নয় বরং ত্যাগী, মাঠের পরিশ্রমিরাই ছাত্রদলের শীর্ষ পদে এসে নেতৃত্ব দেবে এমন প্রত্যাশা সংগঠনটির বঞ্চিত নেতাকর্মীদের।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এছাড়া যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র কমিটিতে আমরা পদ দিতে পারিনি। ওই বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিগুলো ঘোষণার পরেই তাদেরকে কেন্দ্র পদে আসীন করব।

মতামত দিন

Your email address will not be published.

সমসাময়িক হতে Blog