//

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ

33 মিনিট পড়ুন
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • messenger sharing button
    whatsapp sharing button
    twitter sharing button
    linkedin sharing button
    copy sharing button
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান। পুরনো ছবি

দীর্ঘ দুই দশক পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রথম বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে দলটি। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।

বর্তমান মেয়াদে প্রথম বাজেট হলেও সামগ্রিকভাবে এটি হতে যাচ্ছে বিএনপি সরকারের ১৩তম জাতীয় বাজেট। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটের পরিমাণ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

অর্থমন্ত্রী আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করবেন। অর্থ বিভাগ সূত্র বলছে, এবারের বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে চলতি ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছর সরকারকে ব্যয় করতে হবে ১৯ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের মূল বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা চলে যাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি প্রণোদনা ও নগদ ঋণসহ পরিচালন ব্যয় খাতেই। বাকি মাত্র ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সারা দেশে ভ্যাটের জাল ছড়িয়ে দিতে ব্যাংকের ব্যবসায়িক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। একইসঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের থেকে সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর আদায়ের প্রস্তাবও রাখবেন অর্থমন্ত্রী। তবে অগ্রিম করের পরিমাণ বেশি হলে ওই খুচরা বিক্রেতা কর দেওয়ার সময় সমন্বয় করতে পারবেন।

এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে দেশের ক্ষুদ্র ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অভিন্ন হারে টার্নওভার কর আরোপ করার প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। এর বাইরে সাধারণ জনগণকে করের আওতায় আনতে ছাত্র এবং গেজেট দ্বারা অব্যাহতি ছাড়া সবার ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে টিআইএন। অর্থাৎ করযোগ্য আয় না থাকলেও ব্যাংকে টাকা রাখতে গেলে খুলতে হবে টিআইএন। আর টিআইএন থাকলেই প্রতি বছর দিতে হবে রিটার্ন। আর রিটার্ন না দিলে গুনতে হবে জরিমানা।

এ ছাড়া সারা দেশে করজাল সম্প্রসারণ করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, সাব-রেজিস্ট্রিসহ করদাতার অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠানে থাকবে এনবিআরের প্রবেশাধিকার। চাইলেই এনবিআর কর্মকর্তারা করদাতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য নিতে পারবেন। করজাল বাড়ানোর অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে এ প্রস্তাবও করবেন অর্থমন্ত্রী।

তবে এর বিপরীতে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে তদারকিবিহীন বন্ডেড সুবিধার প্রস্তাব। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অডিট করার বিধান থাকলেও তা বাড়িয়ে তিন বছর করা হচ্ছে। এছাড়া ওয়্যার হাউসের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী একবারেই প্রাপ্যতা মিলবে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি অফডক ও আইসিডি নীতিমালায় আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। এসব অফডক বা আইসিডিতে বিদেশি মালিকানা ৪৯ শতাংশের বিধান বাতিল করা হচ্ছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে করা হচ্ছে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল।

এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও উৎপাদনে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। বৈদ্যুতিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া এসব গাড়ি আমদানির করভারও কমানো হচ্ছে। উল্টোদিকে অকটেন-পেট্রোল বা ডিজেলচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এ প্রস্তাব করতে পারেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এর মধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

বিনোদন ও সংস্কৃতি খাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

মতামত দিন

Your email address will not be published.