
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিশুও রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে চালানো হামলায় প্রাণ হারান তারা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চলমান যুদ্ধের ১৩তম দিনে বৃহস্পতিবার সকালেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে এবং এসব হামলায় ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।

ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গাজা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত খান ইউনিসের একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাত শিশুসহ নয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে, খান ইউনিসের পশ্চিমে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশুও নিহত হয়েছে।

এদিকে গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও অভিযানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪৭৮ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এই তথ্য জানায়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কেদরা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪৭৮ জন মারা গেছেন এবং বিভিন্ন মাত্রার আঘাতে ১২ হাজার ৬৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের ৭০ শতাংশই নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। হামলার শিকার শত শত ফিলিস্তিনি এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একটি হাসপাতালে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই এক হামলায় একসঙ্গে ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে জানানো হয় হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৭১ জন।
আল-আহলি আরব নামের ওই হাসপাতালটিতে অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এছাড়া দখলদার ইসরায়েলিদের হামলা থেকে বাঁচতেও অনেক মানুষ ‘নিরাপদ আশ্রয়’ ভেবে হাসপাতালটিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকার হাসপাতালের ওপর এ হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অবশ্য বুধবারের এই পরিসংখ্যানে হাসপাতালে বোমা হামলার হতাহতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।
