/

ফেনিতে শালিস বৈঠকে সালিশদার খুন

12 মিনিট পড়ুন
🚹স্টাফ রিপোর্টার
🗓️ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
নিহত আব্দুর রঊফ  ছবিঃ সংগৃহিত

 

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বাড়ির জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ মেটাতে গিয়ে সালিশী হয়েছেন বৈঠকে খুন হয়েছেন আবদুর রউফ (৭০) নামে এক সালিশদার।

শুক্রবার রাতে আবদুর রউফ (৭০) নামে এক সালিশদার।জেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর গ্রামে জনৈক আমজাদ মজুমদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় মামুন, তার স্ত্রী রোকসানা এবং মনসুর নামে আরেক সালিশদারকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। নিহত আবদুর রউফ স্থানীয় একটি হোটেলের মালিক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের ছেলে আবদুল মোমিন জানান, তাদের বাড়ির মিজান ও মামুন নামে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঘরের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির উঠানে সালিশ ডাকে দুই ভাই। স্থানীয় ২০-২৫ জন গণ্যমান্য লোক উপস্থিত ছিলেন এতে। কিন্তু সালিশ চলাকালে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে দুই ভাই। এ সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে হট্টগোল বেঁধে যায় সেখানে। তখন হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করেন আবদুর রউফ।

মোমিনের অভিযোগ, সালিশদার মনসুরের সঙ্গে পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল তার বাবার। সুযোগ কাজে লাগাতে অন্ধকারে মনসুরের নেতৃত্বে তার বাবার ওপর হামলা করে মামুন ও তার ছেলে আরমানসহ কয়েকজন। তাদের সবার হাতে দা-ছুরি ছিল এ সময়। অন্ধকারের মধ্যেই ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হয় তার বাবা আবদুর রউফকে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আবদুল মোমিন বাদি হয়ে রাতেই তার বাবাকে হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, আমার ওয়ার্ডে সালিশ, অথচ আমাকে জানানো হয়নি। দিনে সালিশ না করে রাতে কেন সালিশ ডাকা হলো? আমার ধারণা, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাগলনাইয়া থানার ওসি সুদ্বীপ রায় জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আটকদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।  বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মতামত দিন

Your email address will not be published.