//

শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, মধ্যরাতে বিক্ষোভে উত্তাল জাবি, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি 

17 মিনিট পড়ুন
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • facebook sharing button
    messenger sharing button
    whatsapp sharing button
    twitter sharing button
    linkedin sharing button
    copy sharing button
    print sharing button
প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: কালবেলা
প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের বেধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৬ মে) রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়৷ পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবি জানান।

এর আগে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে (আল্টিমেটাম) দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানান তারা।

দাবিগুলো হলো—অপরাধীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে; যদি এ দাবি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় স্বীকারপূর্বক প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে; হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে; ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের কুইক রেসপন্স টিমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা ও পূর্বের বিভিন্ন ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়া প্রক্টর স্বপদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

এদিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাত তিনটার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান৷ এসময় উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে তা প্রক্টরিয়াল বডি দেখভাল করে। তবে বহিরাগত কেউ অপরাধ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং সেটি মূলত পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত।

তবে উপাচার্যের এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাত যুবককে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

 

 

মতামত দিন

Your email address will not be published.

সমসাময়িক হতে Blog