//

‘শাপলা’ প্রতীক তালিকায় না রাখার কারণ জানাল নির্বাচন কমিশন

23 মিনিট পড়ুন
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ জুলাই ২০২৫

messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
print sharing button
copy sharing button

‘শাপলা’ প্রতীক তালিকায় না রাখার কারণ জানাল নির্বাচন কমিশন

ছবি: সংগৃহীত

 

 

 

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অষ্টম কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা প্রতীক চেয়ে দুটি দল আবেদন করেছিল। গত ১৭ এপ্রিল নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২২ জুন এ প্রতীক চায়। সব বিবেচনায় প্রতীকের তালিকায় শাপলা রাখা হয়নি। আমরা শাপলাকে বাদ দিইনি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে বর্তমানে মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য নির্ধারিত। বাকি প্রতীকগুলো থাকবে নতুন নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য।

এর আগে বুধাবার দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ নির্বাচন বিধিমালায় তফসিলভূক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, শাপলা জাতীয় প্রতীক হওয়ায় নির্বাচনের প্রতীক হিসেবে এটি বিধিমালার তফসিলভূক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে প্রতীকটি কেউ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

জানা যায়, বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় ‘দলীয়’ ও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের’ প্রতীক পৃথক তফশিলে রয়েছে। সংশোধনীতে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক একই তফশিলে রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০-এর দফা (১) অধীনে ১১৫টি প্রতীক থেকে যে কোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।

ইসির চূড়ান্ত তালিকায় যে ১১৫টি প্রতীক রয়েছে সেগুলো হচ্ছে : আপেল, আনারস, আম, আলমিরা, ইগল, উটপাখি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কাঁচি, কবুতর, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কেটলি, কুমির, কম্পিউটার, কলা, কুড়াল, কুলা, কুঁড়ে ঘর, কোদাল, খাট, খেজুর গাছ, গরুর গাড়ি, গাভি, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ঘোড়া, চাকা, চার্জার লাই, চাবি, চিংড়ি, চেয়ার, চশমা, ছড়ি, ছাতা, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, ট্রাক, টেলিফোন, টেলিভিশন, ডাব, ঢেঁকি, তবলা, তরমুজ, তারা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোয়াত-কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙর, নৌকা, প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলকপি, ফুলের টব, ফুলের মালা, ফ্রিজ, বক, বাঘ, বই, বটগাছ, বাঁশি, বেঞ্চ, বেগুন, বাইসাইকেল, বালতি, বেলুন, বৈদ্যুতিক পাখা, মই, মগ, মাইক, মোটরগাড়ি, মশাল, ময়ূর, মাছ, মাথাল, মিনার, মোমবাতি, মোবাইল ফোন, মোড়া, মোরগ, রকেট, রিকশা, লাউ, লিচু, লাঙ্গল, শঙ্খ, সোনালি আঁশ, সেলাই মেশিন, সোফা, সিংহ, স্যুটকেস, হরিণ, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাঁস, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা ও হেলিকপ্টার। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ায় দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে ৫১টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। ওই ৫১টি দলের জন্য ৫১টি প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬৪টি প্রতীক নতুন নিবন্ধন পেতে যাওয়া দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হচ্ছে। আর আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল না হয়ে স্থগিত থাকায় নৌকা প্রতীক তালিকা বহাল রাখা হয়েছে।

শাপলা প্রতীক না হলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না-সারজিস : শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম লিখেছেন, ‘শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়। জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। একইভাবে ধানের শীষ, পাটপাতা এবং তারকাও জাতীয় প্রতীকের অংশ।’ তিনি বলেন, ‘শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না। আর যদি জাতীয় প্রতীকের যে কোনো একটি অংশ রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে পারে তাহলে শাপলাও হতে পারবে। জাতীয় ফুল হিসাবে শাপলার প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই। কারণ জাতীয় ফল কাঁঠাল অলরেডি মার্কা হিসাবে আছে। আর যদি মার্কা দেখেই ভয় পান তাহলে সেটা আগে থেকেই বলেন!’

 

 

 

 

মতামত দিন

Your email address will not be published.

সমসাময়িক হতে Blog