সার্ভিস ম্যাপিং শেয়ারিং সভা চিত্রঃ দৈ বা এনিজস্ব প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর, ২০২৩
চিত্রঃ সংগৃহীত
ঢাকাঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে ঢাকা সফররত মার্কিন প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। ইসির সঙ্গে মার্কিন প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের বৈঠকে আলোচনার মূল ফোকাস ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
আজ মঙ্গলবার ( ১০ অক্টোবর ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক করে মার্কিন প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। পরে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান সিইসি। তবে মার্কিন প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের কোনো সদস্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।
বৈঠক শেষে কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ইসির দায়িত্ব-কাজ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ইসি কীভাবে কাজ করে, সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজের সমন্বয় হয়—এসব বিষয়সহ নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া প্রতিনিধিদলকে বুঝিয়েছেন তাঁরা।
সিইসি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলটি হয়তো দেশে ফিরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়ন করতে গত শনিবার ঢাকায় আসে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সমন্বয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি গঠিত।
সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবার দিনভর আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলই নির্বাচন প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী অনড় অবস্থান তুলে ধরে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশসহ নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বিশেষ প্রতিনিধি,মুন্সীগঞ্জ
১০ অক্টোবর, ২০২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিত্রঃ বিটিভি থেকে নেয়া।
মুন্সীগঞ্জঃ বাঙালি জাতিকে আমি আহ্বান করব, বাঙালি জাতির ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলে এদেশে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বেলা ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া রেলওয়ে স্টেশনে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল, অনেক চক্রান্ত হয়েছিল। এক ভদ্রলোক, হ্যাঁ বিশ্বজুড়ে নাম রয়েছে তার। কিন্তু সামান্য একটা ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারবে না বয়সের কারণে, সেটা বলার কারণে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করিয়ে দিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তার পক্ষে। সেদিন বলেছিলাম নিজের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি করব, আমরা তা করে দেখিয়েছি।
তিনি বলেন, আজকে যারা ভোটের কথা বলে, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে, আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলে এদেশে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আর যারা নির্বাচনের ধোঁয়া তোলে, আর প্রতিদিন আমাদের ক্ষমতা থেকে হটায়, তারা কখনো অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। কারণ তাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে একটা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত থেকে এবং ভোট চুরি করা ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় আসে নাই। যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট, ২০ দলীয় জোট ৩০০ সিটে পেয়েছিল মাত্র ২৯টি সিট। তারপর থেকে তারা নির্বাচন বয়কট, নির্বাচন নিয়ে খেলা, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা করা, মানুষের জীবন নিয়ে খেলা—এই ধ্বংসযজ্ঞে মেতে আছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালি জাতিকে আমি আহ্বান করব, বাঙালি জাতির ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। এই দেশ আমাদের। রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশে এগিয়ে যাবে, বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট জনগোষ্ঠী, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গর্ভমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি—এই আমরা গড়ে তুলব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরাই প্রথম এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যে কর্মসূচি নেই, তার সুফল আজ দেশবাসী পাচ্ছে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন আমরা যমুনা নদীর ওপর প্রথম সড়ক ও রেলসহ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু উদ্বোধন করি। পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার যখন ক্ষমতায় আসি ২০০৮ সালের নির্বাচনে, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন রেলকে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেবে ঘোষণা দেই। আলাদা মন্ত্রণালয় করে, রেল যোগাযোগ যাতে বাংলাদেশে আরও ব্যাপকভাবে গড়ে উঠে, তার পদক্ষেপ নেই। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে যে রেল যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল, সেগুলো উন্মুক্ত করে দিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমরা পদক্ষেপ নেই।
তিনি আরও বলেন, সেই সঙ্গে গত সাড়ে ১৪ বছরে আজকের বাংলাদেশ, বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, সেই রূপকল্প ২১ আমরা বাস্তবায়ন করে আজকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এই সাড়ে ১৪ বছরে আমরা ৮২৩ কিলোমিটার নতুন রেললাইন, ২৮০ কিলোমিটার মিটার গেজ ও ব্রডওয়ে ডুয়েল গেজ, এক হাজার ১৯১ কিলোমিটার লাইন পুনর্বাসন-পুনর্নির্মাণ এবং একই সময়ে এক হাজার ৩৬টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ৪৯৪টি রেলসেতু পুনর্বাসন বা পুনর্নির্মাণ এবং ১৪৬টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ ও ২৩৭টি স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণ করেছি।
‘তা ছাড়া আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-ভাঙ্গা-মাওয়া মহাসড়কসহ ৮৫৪ কিলোমিটার মহাসড়ক চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করেছি। ১০ হাজার ৮১০ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। রেলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পর্যন্ত লোকোমোটিভ ৬৫৮টি, যাত্রীবাহী ক্যারেজ ৫১৬টি, মালবাহী ওয়াগন ৫০টি, লাগেজ ভ্যানসহ রেলওয়েতে সংযুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন রুটে ১৪৩টি নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। ১৩৪টি স্টেশনে সিগনালিং ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা হয়েছে। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। ডুয়েল গেজ, ব্রড গেজ—এই ধরনের রেললাইন আমরা তৈরি করে দিচ্ছি, যাতে আমাদের রেল গতিশীল হয়, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে আরও সক্ষমতা অর্জন করে। ভবিষ্যতে আরও ৪৬টি নতুন ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪৬০টি নতুন ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ২০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ, এক হাজার ৩১০টি নতুন ওয়াগন সংগ্রহেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করি ৩-৪ বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে রেলওয়ে যোগাযোগ আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।

ক্রীড়া ডেস্ক,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

আবার ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেতে পারে এশিয়ার একটি দেশ। ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের ইচ্ছাপ্রকাশ করে ফিফার কাছে সরকারি ভাবে আবেদন জানাল সৌদি আরব।
২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব কয়েক দিন আগেই বন্টন করেছে ফিফা। তিনটি মহাদেশের ছ’টি দেশে হবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি। এ বার ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ। প্রতিযোগিতা আয়োজনে আগ্রহী দেশগুলির কাছ থেকে আবেদন পত্র চেয়েছিল ফিফা। সবার আগে আবেদন জানাল সৌদি আরব। কাতারের পর আরব দুনিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সৌদি আরবে ফুটবল কর্তারা। তবে তাদের লড়াই সহজ নাও হতে পারে। কারণ ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়াও। বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করার মতো সাতটি স্টেডিয়াম তাদের হাতে এখনই রয়েছে। এ ছাড়াও ৪০ হাজার দর্শকাসন রয়েছে এমন আরও ১৪টি স্টেডিয়ামকে তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ব্যবহার করতে প্রস্তুত। সেই অর্থে সৌদি আরবের পরিকাঠামো নেই। তবে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপের মধ্যে বিশ্বকাপের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন সৌদি আরবের ফুটবল কর্তারা। অস্ট্রেলিয়াও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য।
২০২৬ এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। তাই ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ আবার এশিয়ায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহী দেশগুলিকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফিফার কাছে আবেদন জানাতে হবে। ৩০ নভেম্বরের সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার এবং ফুটবল সংস্থার মধ্যে লিখিত চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।
বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অধিকাংশের সমর্থন পেতে হবে। সৌদির কর্তারা সমর্থন নিয়ে চিন্তিত নন। সৌদি প্রো ফুটবল লিগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, নেমার, করিম বেঞ্জিমাদের উপস্থিতিই সে দেশের কর্তাদের বড় হাতিয়ার। তা ছাড়া সৌদির পর্যটন দফতরের প্রচার দূত হিসাবে রয়েছেন লিয়োনেল মেসি।
ক্রীড়া ডেস্ক,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

ইতিহাস বা পরিসংখ্যানের পাতায় এমন কিছু ঘটনা থাকে, যা দেখে বিস্মিত হতেই হয়। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ক্রিকেট বিশ্বকাপ দ্বৈরথের ইতিহাস বা পরিসংখ্যানটা সেরকমই। সত্যি শুনলে চমকে উঠতেই হয়। ক্রিকেট বিশ্বকাপে কখনোই পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা!
ঘটনা সত্যিই। ক্রিকেট বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দুই দল মোট ৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে ৭ বারই জয়োল্লাস করেছে পাকিস্তান। অন্য ম্যাচটি বৃষ্টি বাগড়ায় পরিত্যক্ত হয়েছে। পরিত্যক্ত হয়েছে আবার সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপের দ্বৈরথটি। তার আগে ৭ বারই পরাজয়ের বেদনায় নীল হয়েছে লঙ্কানরা। যার শুরুটা সেই ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে দুই দলের সেই প্রথম সাক্ষাতে পাকিস্তান জিতেছিল ১৯২ রানে। যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। তবে কোন বড় জয়, কোন ছোট জয়, সেটা বড় কথা নয়। আসল কথা হলো বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কখনো পাকিস্তান হারেনি।
আজ সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। হায়দারাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে পাকিস্তান আজও যে লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়ের ইতিহাসের ধারাটা ধরে রাখতে চাইবে, সেটি স্পষ্টই। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চাইবে, যেভাবেই হোক, ইতিহাসের ধারাটা বদলাতে। সেমিফাইনালের দৌড়ে থাকতে হলে আজ জয় পাওয়াটা দরকারও শ্রীলঙ্কার জন্য। দাসুন শানাকার শ্রীলঙ্কা এবারের বিশ্বকাপটা শুরু করেছে ১০২ রানের বিশাল হার দিয়ে। হারের ব্যবধান যতটা বড়, শ্রীলঙ্কার হারটা আসলে তার চেয়েও বেশি অসহায়ভাবে ছিল। প্রথমে ব্যাট করে ব্যাটিং রেকর্ডের মালা গেঁথে ৫ উইকেটে ৪২৮ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কা আসলে ম্যাচটা হেরে যায় তখনই। পরে ব্যাট হাতে ৩২৬ রান করার মাধ্যমে হারের ব্যবধানটা ছোট করেছে শুধু। তো এমন হারে শুরুর পর আজ জয় না পেলে লঙ্কানদের সেমিফাইনাল স্বপ্নটা আরও বড় ধাক্কা খাবে। বাবর আজমের পাকিস্তান দাসুন শানাকার শ্রীলঙ্কাকে সেই ধাক্কাটা দেওয়ার পণ করেই নামছে মাঠে।
বোদ্ধাদের প্রাক-টুর্নামেন্ট আলোচনা পর্বেই এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান অন্যতম টপ ফেবারিট। তা বাবর আজমের দল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে ফেভারিটের মতোই। যদিও ভারত বিশ্বকাপে পাকিস্তান শুরুটা করেছে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তবে ব্যাটে-বলে ডাচদের পাত্তাই দেননি বাবর আজমরা। ৮১ রানের জয় মাঠে তাদের একচ্ছত্র দাপটের কথাই বলছে। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আজ যুক্ত হচ্ছে লঙ্কানদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে একচ্ছত্র জয়ের পরিসংখ্যান বা ইতিহাস। দুইয়ে মিলে বাবর আজম, শাহীন আফ্রিদি, শাদাব খানরা যে আজ আরও উজ্জীবিত হয়ে মাঠে নামবেন, সেটি অনুমিতই। পাকিস্তানিদের সেই উজ্জীবিত পার্টিতে পানি ঢেলে তাদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের ইতিহাস লিখতে পারবে শ্রীলঙ্কা?
বিশেষ প্রতিনিধি,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণায় অনেক ব্যবহারকারী অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। টার্গেটেড ও অ্যালগরিদম ভিত্তিক বিজ্ঞাপনকে অনেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি হস্তক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করেন।
ইউরোপে সাবস্ক্রিপশন ফির বিনিময়ে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ব্যবহারের সুযোগ এ পরিস্থিতিতে এক সময়োপযোগী সেবা নিয়ে আসছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। আর তা হলো-বিজ্ঞাপনবিহীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম।সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।স্বভাবতই, এই সেবা বিনামূল্যে পাবেন না ব্যবহারকারীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ডেস্কটপ পিসিতে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সেবা পেতে মাসিক প্রায় ১৪ ডলার খরচ গুণতে হতে পারে বলে জানা গেছে। মোবাইলের ক্ষেত্রে খরচ ১৭ ডলার হতে পারে। মেটার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানে এমন সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ডেস্কটপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের জন্য মাসে প্রায় ১০ ইউরো এবং অতিরিক্ত সংযুক্ত অ্যাকাউন্টের প্রতিটির জন্য প্রায় ৬ ইউরো চার্জ করবে মেটা।
মোবাইল ডিভাইসের ক্ষেত্রে খরচ একটু বেশি। মোবাইলে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য প্রায় ১৩ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের তথ্য গোপনীয়তা কমিশন ৩৯০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছিল।মেটাকে সতর্ক করে দিয়ে আয়ারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বলেছিল, শুধু ‘ব্যবহারের শর্তাবলীর’ ওপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারীদের অনলাইন কার্যকলাপের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না।এরপরেই মেটা জানতে চেয়েছিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনের জন্য গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করতে পারবে কি না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রাহকদের সম্মতি পেতে তারা উদ্যোগ নেবে।ইউরোপের আরও কয়েকটি আইনের কারণেও এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিল মেটা।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটা ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউরোপের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘সাবস্ক্রিপশন নো অ্যাডস (এসএনএ)’ নামের বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সেবা চালু করতে চায়।মেটার এক মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘বিজ্ঞাপনের আয়’ থেকে সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কৌশলে বিশ্বাসী। কিন্তু একইসঙ্গে ‘নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চাহিদা মেনে চলতে বিকল্প উপায়গুলো’ যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল-কম্পিটিশন কর্তৃপক্ষের কাছে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত উপস্থাপন করেছে মেটা। পরিকল্পনাটি ইইউর গোপনীয়তা দেখভালকারী কর্তৃপক্ষের কাছেও দেওয়া হয়েছে, যেন এ ব্যাপারে তারা তাদের মতামত জানাতে পারে।
ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম সেবা চালুর ব্যাপারে মেটার পরিকল্পনার কথা সর্বপ্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিত তেমন কোনো তথ্য ছিল না। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও বিস্তারিত তথ্যসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় গ্রাহকদেরকে মেটা দুটি বিকল্প দেবে। একটি বিজ্ঞাপনসহ বিনামূল্যের সেবা, অপরটি বিজ্ঞাপনমুক্ত সাবস্ক্রিপশন ফি সেবা।
সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম খাতে মেটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচিত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ এবং থ্রেডসের স্বত্বাধিকারী এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে মেটার প্রধান ও সবচেয়ে বড় সেবা হচ্ছে ফেসবুক। একসময় মূল প্রতিষ্ঠানের নামও ছিল ফেসবুক। ২০২১ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মেটা’ রাখা হয়।
অর্থের বিনিময়ে ফেসবুকের সেবা চালু করা হলে সেটি হবে মেটার জন্য এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বরাবরই বলে আসছেন, প্রতিষ্ঠানটির মূল সেবাগুলো সবসময়ই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। জাতধর্ম-বর্ণ ও উপার্জন সক্ষমতা ভেদে সারা বিশ্বের মানুষ যাতে এই সেবাগুলো ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য জাকারবার্গ সব সময় ফেসবুক ও অন্যান্য সেবাকে ‘বিজ্ঞাপন সমর্থিত’ ফ্রি মডেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা হলেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় সেটা হলো, প্রযুক্তির এই উন্নতির কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন এবং আরও অনেকেই চাকরি হারাবেন।
অনেক শিক্ষার্থীই চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে তাদের বিনামূল্যে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দিত—যদিও এর নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে বাধা থাকা উচিত না।
শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুমাত্রিক ব্যবহারের অর্থ হবে এর সম্পূর্ণ কাঠামো পরিবর্তন করা। কিন্তু সঠিকভাবে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা যায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি এর দক্ষতার উন্নতি করতে পারে, তাহলে সেটা একইভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বাড়তি সহায়ক হতে পারে।
মাল্টিপল চয়েস প্রশ্নের (এমসিকিউ) সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার মতো কিছু কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যেতেই পারে। এতে শুধু সময়ই বাঁচবে না, শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ে তাদের ফলাফল পেয়ে যাবেন।
চ্যাটবট ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক শিক্ষার্থী গুগলের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গাইড হিসেবে চ্যাটবট ব্যবহার করছে, যা শিক্ষার্থীদের ইনস্টিটিউটের বিস্তারিত তথ্য জানতে সহায়তা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়তি সহায়ক হতে পারে। যেহেতু এর অ্যালগরিদম শিক্ষার্থীর দক্ষতা বিশ্লেষণ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী তাদের পরামর্শ দিতে পারে, তাই এটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদেরকে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে।
শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহারে অন্যতম অবদান রেখে চলেছেন খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান খান। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ‘খানমিগো’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শিক্ষা সহায়ক চালু করেছে। শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, এটি শিক্ষকদের পাঠ পরিকল্পনা পর্যন্ত তৈরি করে দিতে সহায়ক।
এই ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে।
সিঙ্গাপুরের এআই সেন্টার ফর এডুকেশনাল টেকনোলজিস ‘কোডভেরি’ নামে একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের কোডিং অ্যাসাইনমেন্টের ভুল শনাক্ত করে এবং সেই অনুযায়ী মন্তব্য দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে কাস্টমাইজড ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তক তৈরির পরিকল্পনা করছে। শিক্ষায় ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে থাকা দেশ ফিনল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক স্কুল ‘ভিআইএলএলই’ ব্যবহার করে। এটি একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে শিক্ষার্থীদের শেখার বিষয়বস্তু ছাড়াও রয়েছে একটি উন্নত এআই ইঞ্জিন, যা শিক্ষকদের সাহায্য করে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা টাস্ক দিতে।
শিক্ষকদের উদ্বেগ রয়েছে যে শিক্ষার্থীরা অসৎ উপায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করতে পারে। তবে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা যেমন চলছে, তেমনি টার্নিটিনের মতো অ্যাপও চলে এসেছে এগুলোকে শনাক্ত করতে। কাজেই, অসততার চেষ্টা যেমন হতেই পারে, একইভাবে সেগুলো প্রতিরোধের সক্ষমতাও তৈরি হয়ে যাবে।
শিক্ষায় অন্যান্য প্রযুক্তির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজন হবে। ইউনেস্কো ইতোমধ্যেই শিক্ষায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সম্ভাব্য সূচনা হতে পারে।
যাইহোক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সত্যিকার অর্থে শিক্ষায় বিপ্লব ঘটাতে এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ভাবনে আরও অনেক দূর যেতে হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন অ্যাকাউন্ট আমাদের নিত্যসঙ্গী। পিসি, মোবাইল, ইমেইল, ফেসবুকসহ আরও অনেক কিছুতেই লগইন করার জন্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি আমরা। কিন্তু দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কারণে নিমিষেই বেহাত হয়ে যেতে পারে আপনার অ্যাকাউন্ট।
স্পেকঅপস এর গবেষণায় দেখা গেছে ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবচেয়ে বেশি ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ‘password’, ‘research’ এবং ‘GGGGGGGG’। ৮ অক্ষর দৈর্ঘ্যের পাসওয়ার্ড- তাতে নম্বর, বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর, চিহ্ন—যাই থাকুক না কেন, হ্যাক করতে সবচেয়ে কম সময় লাগে হ্যাকারদের। আর যদি ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ডে শুধু নম্বর থাকে, তাহলে সেগুলো খুব সহজেই হ্যাক করা যায়।
৯ অক্ষরের পাসওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফাঁস হওয়ার পাসওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ‘GGGGGGGGG’, ‘anandiGBZ’, এবং ‘cleopatra’।
আর ১০ অক্ষরযুক্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাসওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ‘OOOOOOOOOO’, ‘GGGGGGGGGG’, এবং ‘passwordGG’।
‘Sym_cskill’, ‘sym_cskillO’, এবং ‘Foxracingll’ হচ্ছে ১১ অক্ষরযুক্ত পাসওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
১২ অক্ষরের পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ‘sym_cskillOT’, ‘sym_cskillOG’, এবং ‘sym_cskillOB’ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
১৩ অক্ষরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাসওয়ার্ডের মধ্যে আছে ‘mcafeeptfcorp’, ‘CitrixTargusl’, এবং ‘rubyflankerG’।
১৪ অক্ষরের ঝুঁকিপূর্ণ পাসওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ‘hacktheplanetl’, ‘trendmicro.com’, এবং ‘minecraft.A.S’ আর ১৫ অক্ষরের ক্ষেত্রে ‘SY&cutskillsIO’, ‘Sym_newhireOEIE’, এবং ‘sym_newhireOAIE’
স্পেকঅপস বলছে ১৫ অক্ষরের পাসওয়ার্ডের মধ্যে ‘new hire’ শব্দ দুইটি প্রায় খুঁজে পাওয়া যায়, যেমন নিউহায়ার১২৩৪, বা এরকম কিছু। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগ থেকে নতুন কর্মীদের অফিস অ্যাকাউন্ট দেওয়ার সময় শুরুতে এ ধরনের একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। হ্যাকাররাও এখন এ বিষয়টি জেনে গেছেন।
যার ফলে পাসওয়ার্ডে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে স্পেকঅপস।
এতে আরেকটি বিষয় প্রমাণ হয় যে অনেক কর্মী অফিসের কাছ থেকে পাওয়া পাসওয়ার্ডটি নির্দেশনা মেনে বদলে নেন না।

তবে স্পেকঅপসের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ছিল ১২ অক্ষর বা তার চেয়ে কম দৈর্ঘ্যের। তাই ছোট দৈর্ঘ্যের পাসওয়ার্ডের তুলনায় বড় দৈর্ঘ্যের পাসওয়ার্ড বেশি নিরাপদ—এ বিষয়টি মোটা দাগে মেনে নেওয়া যায়।
ছোট হাতের ও বড় হাতের অক্ষর, নম্বর ও বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত ২২ অক্ষরের একটি পাসওয়ার্ড উদ্ধার করতে একজন হ্যাকারের ২ সেপটিলিয়ন (১ সেপটিলিয়ন= ১০০০০০০০০০০০০০০০০০) বছর সময় লাগতে পারে। অথচ একটি ১৩ অক্ষরের পাসওয়ার্ড মুহূর্তের মধ্যেই হ্যাক করা সম্ভব।
তবে শুধু দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেই যে অনলাইনে নিরাপদ থাকা যাবে, তা নয়। বর্তমানে ইন্টারনেটে ফিশিং এবং নানা ধরণের প্রলুব্ধকর ও ফাঁদযুক্ত লিংকের মাধ্যমে খুব সহজে ও দ্রুত মানুষের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে বিভিন্ন দুষ্টচক্র।
তাই অনলাইনে নিরাপদ থাকতে বড় পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি ফাঁদ এড়িয়ে চলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা একটি বড় সতর্কতা হতে পারে।
ক্রীড়া ডেস্ক,
১০ অক্টোবর, ২০২৩

ছবিঃ ইন্টারনেট
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আগামী সপ্তাহে দুটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ১৩ অক্টোবর নিজেদের মাটিতে প্যারাগুয়েকে মোকাবিলার চারদিন পর স্বাগতিক পেরুর বিপক্ষে খেলবে তারা। সেজন্য ৩৪ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কোচ লিওনেল স্কালোনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত আর্জেন্টিনা দলে জায়গা করে নিয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। যদিও চোটের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মাঠের বাইরে আছেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কবে নাগাদ ফিরতে পারেন সেটাও নিশ্চিত নয়।
গত মাসে ইকুয়েডরের বিপক্ষে বাছাইয়ের ম্যাচে মেসির চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানে জেতে আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেননি তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বদলি হিসেবে চলে যান মাঠের বাইরে। তখন জানা যায়, মাংসপেশিতে চোট পেয়েছেন তিনি। এতে বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকতে হয় মেসিকে। সেদিন তাকে ছাড়াই ৩-০ গোলের জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।
জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির হয়ে গত ছয় ম্যাচের কেবল একটিতে খেলতে পেরেছেন তিনি। তাও মাত্র ৩৭ মিনিটের জন্য। গত ২১ সেপ্টেম্বর মেজর সকার লিগে (এমএলএস) টরোন্টোর বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর আর মাঠে দেখা যায়নি তাকে। মায়ামির কোচ জেরার্দো ‘তাতা’ মার্তিনো জানিয়েছেন, পায়ের পুরনো চোটে ভুগছেন মেসি। তবে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মেসির ফেরার সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানাতে পারেননি তিনি।
চোটাক্রান্ত মেসি থাকলেও স্কালোনির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি আনহেল দি মারিয়ার। তিনিও চোটে ভুগছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পান বেনফিকার এই উইঙ্গার। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন এএস রোমার ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে আছে আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট ৬। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল।
আর্জেন্টিনা দল:
গোলরক্ষক: হুয়ান মুস্সো (আতালান্তা), এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), ওয়াল্তার বেনিতেজ (পিএসভি আইন্দহোফেন) ও ফ্রাঙ্কো আরমানি (রিভারপ্লেট);
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মোলিনা (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ), হার্মান পেজ্জেয়া (রিয়াল বেতিস), গনজালো মন্তিয়েল (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), হুয়ান ফোইথ (ভিয়ারিয়াল), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), লুকাস এসকিভেল (অ্যাথলেতিকো পারানায়েন্সে), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (ফিওরেন্তিনা), মার্কো পেলেগ্রিনো (এসি মিলান) ও মার্কোস আকুনা (সেভিয়া);
মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (এএস রোমা), রদ্রিগো দি পল (অ্যাতলেকিতো মাদ্রিদ), জিওভান্নি লো সেলসো (টটেনহ্যাম হটস্পার), গিদো রদ্রিগেস (রিয়াল বেতিস), এঞ্জো ফার্নান্দেস (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্তার (লিভারপুল), এজিকিয়েল পালাসিওস (বেয়ার লেভারকুসেন), ব্রুনো জাপেল্লি (অ্যাথলেতিকো পারানায়েন্সে), থিয়াগো আলমাদা (আটলান্টা ইউনাইটেড), কার্লোস আলকারাজ (সাউদাম্পটন) ও ফাকুন্দো ফারিয়াস (ইন্টার মায়ামি);
ফরোয়ার্ড: লুকাস বেলত্রান (ফিওরেন্তিনা), নিকোলাস গঞ্জালেজ (ফিওরেন্তিনা), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হুলিয়ান আলভারেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), আলেহান্দ্রো গার্নাচো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), পাওলো দিবালা (রোমা) ও লুকাস ওকাম্পোস (সেভিয়া)।