//

নানা কর্মসূচি নিয়ে অক্টোবরজুড়ে রাজপথে সক্রিয় থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

26 মিনিট পড়ুন
  • নগর প্রতিনিধি 
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৩

 

 

ঢাকাঃ  নানা কর্মসূচি নিয়ে অক্টোবরজুড়ে রাজপথে সক্রিয় থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগও দলের কেন্দ্রের নির্দেশিত কর্মসূচির বাইরে নিজেদের কর্মসূচি ঠিক করছে।

বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের এক দফার আন্দোলনের মুখে ঢাকার রাজপথের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে ভোটের আমেজ সৃষ্টি করতে চায় দলটি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই দুই লক্ষ্য থেকে আওয়ামী লীগ এবার ঢাকার সংসদীয় আসন ধরে ধরেও সমাবেশ-মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছে। এ মাসেই ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি সমাবেশে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি বা বড় জমায়েত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৎপরতা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বরের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে এটি ধরে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু এখন তফসিল পেছানো হতে পারে এমন একটা ধারণা দলটির ভেতরে আলোচনায় রয়েছে। যদি তফসিল পেছানো হয়, তাহলে অক্টোবরের কর্মসূচি টেনে তফসিল পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপির কর্মসূচির ধরন কী হবে, তার ওপর ভিত্তি করে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিও পরিবর্তন হতে পারে।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলা এক্সপ্রেস কে বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নির্বাচনী আমেজে চলে যায় রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু এবার বিরোধী দলের এক দফার আন্দোলনের কারণে আলাদা করে নির্বাচনী প্রস্তুতির সুযোগ নেই আওয়ামী লীগের। এ জন্যই বিরোধী দলের মতো রাজপথের কর্মসূচিতে আঁকড়ে আছে ক্ষমতাসীন দলও। এরপরও কিছুটা নির্বাচনী আমেজ আনতে ঢাকায় আসনভিত্তিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ওই নেতা আরও বলেন, এতে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। জমায়েতও বড় হবে।মাসজুড়েই তাঁরা রাজপথে থাকবেন। প্রয়োজন হলে কর্মসূচি আরও বাড়বে।

১৪ অক্টোবর বিমানবন্দরের কাছে কাওলা সিভিল এভিয়েশন মাঠে জনসভা করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন উপলক্ষে ৭ অক্টোবরই সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন স্থগিত করে এখন সেই সমাবেশ করা হচ্ছে ১৪ অক্টোবর।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, সমাবেশের আগে মহানগর আওয়ামী লীগের যে পাঁচটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, এর প্রায় সবই ১৪ অক্টোবরের সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতিমূলক।

এর মধ্যে ৯ অক্টোবর গাবতলীতে সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।

  • ১০ অক্টোবর প্রতিনিধি সভা করেছে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ।
  • গতকাল বুধবার ঢাকা-১৮ আসনের তুরাগ, উত্তরা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় কর্মিসভা ও মিছিল হয়েছে।
  • আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ আসনের অধীন সব থানায় কর্মিসভা ও মিছিল রয়েছে।
  • শুক্রবার ঢাকা-১১, ১২ ও ১৩ সংসদীয় আসনের থানায় থানায় কর্মিসভা ও মিছিল হবে।
  •  ১৪ অক্টোবর হবে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ।
  •  ২০ অক্টোবর তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় এলাকায় পদযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে।
  • ২৫ অক্টোবর হবে বাড্ডা এলাকায় পদযাত্রা।
  • ২৮ অক্টোবরও পদযাত্রা আছে। তবে স্থান এখনো ঠিক হয়নি।
  • ৩১ অক্টোবর উত্তরায় পদযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে।

এসব কর্মসূচির সমন্বয় করছেন এমন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে লোক আনার মূল দায়িত্ব মহানগর উত্তরের। মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা জেলা ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও নেতা-কর্মীদের আনা হবে। গত ২ সেপ্টেম্বর দ্রুতগতির উড়ালসড়ক চালুর দিন যেভাবে ঢাকা অচল করে সমাবেশ করা হয়, সেই রকমই সমাবেশ হবে।

২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে বিপুল লোক জমায়েতের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এর বাইরে ‘উন্নয়ন ও শান্তি’ সমাবেশের নিয়মিত কর্মসূচি তো থাকবেই।

এদিকে ২৯ অক্টোবর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে মতিঝিলে সমাবেশে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আয়োজনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি লোক জমায়েতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানগর উত্তরও অংশ নেবে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের অধীন বিভিন্ন জেলা থেকে লোক জমায়েত করার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে পাঁচটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগও তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ ঢাকার প্রতিটি আসনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ। ১৬ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুব সমাবেশ করবে সংগঠনটি।

মতামত দিন

Your email address will not be published.