//

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে আবারও ব্যর্থ মার্কিন সিনেট

16 মিনিট পড়ুন
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • facebook sharing button
    messenger sharing button
    whatsapp sharing button
    twitter sharing button
    linkedin sharing button
    copy sharing button
    print sharing button
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সিনেট। এটি ছিল এ ধরনের চতুর্থ প্রচেষ্টা। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন তারা নিয়মিতভাবে এই প্রস্তাব উত্থাপন চালিয়ে যাবেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পাউল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিপক্ষে ভোট দেন। এই ভোটটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যদিও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী সমাধান হয়নি। তবে উভয় পক্ষই নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেন। গত ৭ এপ্রিল দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তার এমন বক্তব্যে কংগ্রেসে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবিকে আরও জোরালো করে।

প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করেন, ট্রাম্প সংবিধানবহির্ভূতভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, যদিও জরুরি আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এককভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই যুদ্ধকে ‘অব্যবস্থাপনা ও ভুল পরিকল্পনার ফল’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংঘাত প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, ইতোমধ্যে বহু মার্কিন প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তার দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ ধরনের প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয়।

এদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে উভয় কক্ষেই পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা কঠিন হবে।

আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ ৬০ দিনে পৌঁছালে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, অন্যথায় সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের বন্দরগামী কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগে জড়িত জাহাজগুলোকে তল্লাশি ও জব্দ করা হতে পারে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, এই নৌ অবরোধ চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে।

 

 

 

 

 

মতামত দিন

Your email address will not be published.