//

বৃষ্টিতে জামালপুরের সড়কে জলাবদ্ধতা, ধসে পড়ছে সিসি ব্লক।

23 মিনিট পড়ুন
জামালপুর  হইতে মোঃ রাসেল রানা
০৮ অক্টোবর,২০২৩
ইসলামপুর-ঝগড়ারচর সড়ক চিত্রঃ দৈ বা এ
জামালপুরঃ  বৃষ্টির পানিতে থই থই সড়ক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উদ্যোগ ও আশ্বাসের কথা জানালেও এর কোনো সমাধান যেনো নেই। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে ভয়াবহ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় একদিকে চলাচলে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সড়কে পিচ ও ইট উঠে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দের। ধসে পড়ছে প্যালাসাইডিংয়ের সিসি ব্লকও।
এমনই চিত্র জামালপুরের ইসলামপুর-ঝগড়ারচর পাকা সড়কের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই মেরামতকাজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সড়ক সংস্কার করার।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক বলছেন রাস্তার পাশে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ১৪ কিলোমিটারের ওই সড়কটির অর্ধশতাধিক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের চরদাদনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন মোড়, বটচর মোড়, পোড়ারচর মণ্ডলপাড়া বাজারের পশ্চিম পাশে, পোড়ারচর পূর্বপাড়া মোড়, টুংরাপাড়া মোড়, চন্দনপুর পশ্চিমপাড়া মোড়, চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে, চন্দনপুর পূর্বপাড়া মোড়সহ অর্ধশতাধিক পয়েন্টে সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এতে একদিকে চলাচলে পথচারীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অপরদিকে, ইট ও পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলেও সড়কে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। সড়কে চনন্দপুর এলাকায় একাধিক স্থানে সড়কের প্যালাসাইডিংয়ের সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ইসলামপুর  উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে ঝগড়ারচর বাজার পর্যন্ত পৌনে ১৪ কিলোমিটার পাকা সড়কটি ২০১৭ সালে নির্মিত হয়। এরপর ২০২০ সালের জুন মাসে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু এবং ২০২১ সালের মে মাসে কাজ সম্পন্ন হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২ লাখ, ৬৬ হাজার ৬৯৮ টাকা। মেরামত কাজটি সম্পন্ন করে এলইঅ্যান্ডএমডব্লিউ (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ সড়কে চলাচলকারী পোড়ারচর গ্রামের সুজা মিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকে অনেক কথা শোনান, কিন্তু তারা কোনো কাজই করেন না। বিশেষ করে বাজার এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে আসা মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
গাইবান্ধা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান, সরকার কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দিলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই সড়ক মেরামত করা হয়। ফলে বৃষ্টি হলেই সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্যালাসাইডিংয়ের সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই রাস্তায় চলাচল করা হাতেম আলী নামে এক অটোরিকশার চালক বলেন, সড়কে পানি জমায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সড়কে চলাচলে যেমন দুর্ভোগ, তেমনই রাস্তায় ক্রমেই বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে মাঝে-মধ্যেই যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী বলেন, সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়াসহ প্যালাসাইডিংয়ের সিসি ব্লক ধ্বসে পড়ার বিষয়টি আমরা স্থানীয় এলজিইডি বিভাগকে জানিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব নয়। কেননা সড়কটি এলজিইডির অধীনে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, রাস্তার পাশে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সড়কে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি সড়কটির ব্যাপারে জানতাম না। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত দিন

Your email address will not be published.