//

সম্প্রতি ভিসানীতি ও দিল্লি নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

18 মিনিট পড়ুন
নিজস্ব প্রতিনিধি ,
৫ অক্টোবর, ২০২৩

  সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  ছবিঃ ফাইল চিত্র 

 ঢাকাঃ  সম্প্রতি ভিসানীতি ও দিল্লি নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 বৃহস্পতিবার (০৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘আমি কথাটা যা বলেছি আপনারা সেটা এখনো অনুভব করছেন না। নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে যে বৈঠকটা—এই বৈঠকের বিষয়টা কিন্তু এক সপ্তাহ পর্যন্ত কেউ জানে না। তাহলে তলে তলে অনেক কিছু হচ্ছে, আমি যে কথাটা বলেছি আমি তো ভুল বলিনি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কন্যার যে সেলফি—তখনও তো কিছু কথা হয়েছে। সেটা তো এখন বলাবলি হচ্ছে। তখনও তো কিছু কথা হয়েছে। এটা তো আর প্রকাশ্যে হয়নি। এটা কোনো কাগজেও আসেনি, মিডিয়াতেও আসেনি। সুতরাং তলে তলে আপোষ মানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন বা আমাদের সম্পর্ক ভালো আছে। আমি সেটা বুঝাতে চেয়েছি।’তিনি বলেন, ‘কেউ নেতিবাচকভাবে নিতে চাইলে নিক না, অসুবিধা কি? তলে তলে মানে ভেতরে ভেতরে। তলে তলে যে বলি সেটা পাবলিক খায়। খেলা হবে যে বলি, এটা কেন বলি? পাবলিক খায়। জনগণ যেটা চায় সেটাই বলবোদিল্লি প্রস্নঙ্গে সেতু মন্ত্রী বলেন যে, মির্জা ফখরুল সাহেবরা আগ বাড়িয়ে অনেক কথা বলেন। সেটির সঙ্গে আমাদের যে উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য, তার কোনো মিল নেই। আপনারাই বলুন, ভারত কখনো আমাদের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করেছে? কিংবা কোনো নির্বাচনে? তাহলে এখানে আমরা ভারতের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকব, এরকম উদ্ভট চিন্তা, আজব চিন্তা আমাদের মাথায় আসেনি। আমরা বুঝি সম্পর্কটা ভালো হলে অনেক দিক থেকেই ভালো।ওবায়দুল কাদের বলেন, দিল্লির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব পরীক্ষিত। ৭১ সাল থেকে আমাদের এই সম্পর্ক আছে। স্ট্র্যাটেজিক পলিসিতে আমাদের দিল্লিকে দরকার, আবার দিল্লিরও আমাদেরকে দরকার। মাঝখানে ২১ বছর সম্পর্কের অবনতি আমাদের কারো জন্য ভালো হয়নি। বিশেষ করে ভারত অনেক বড় দেশ। তাদের ক্ষতি অতটা নেই যতটা ক্ষতি আমাদের হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে আমাদের আরও অনেক ভালো হতো। যেমন ধরুন বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য বহুগুণ বেড়ে গেছে।তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা এটা আমাদের জন্য ভালো। তবে এই নয় যে আমরা অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করব। একটা দিক হচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকলে আমরা কতটা লাভবান হই এটা কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিষ্কার হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে আমরা অন্যদের সঙ্গে বৈরী করব তাও নয়। যেমন আজকে আমরা পরমাণু ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করছি। এখানে তো রাশিয়া সহযোগিতা রয়েছে। এরপর ২৩ অক্টোবর আমাদের মেট্রোরেল আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এটাও জাপানের সহযোগিতায়। এখানে তাদের আর্থিক সহযোগিতাও রয়েছে। চট্টগ্রামে আমাদের আরেকটা মেগা প্রজেক্ট নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টানেল… এখানেও চীনের সহযোগিতা ও সাহায্য রয়েছে। কাজেই আমাদের নীতিটাই হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা এবং কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়।

মতামত দিন

Your email address will not be published.