//

প্রশ্নতীতভাবে ছদ্মবেশের সবচেয়ে বড় উদাহরণ: উইপোকার ছদ্মবেশে গোবরে পোকা

11 মিনিট পড়ুন

নওরোজ দিপ্ত, বিশেষ প্রতিনিধি

১ অক্টোবর ২০২৩

 

ছদ্মবেশ কথাটির সাথে আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত। কিন্তু এই অপার সুন্দর প্রকৃতিতে যে কত আশ্চর্য রকম ছদ্মবেশ আছে সে বিষয়ে আমাদের কতটুকুই বা ধারণা আছে। আজ আপনাদের এমনই এক অদ্ভুত ছদ্মবেশের কথা বলব যা শুনলে আপনাদের চোখ কপালে উঠবে।

গবেষকেরা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে এক নতুন প্রজাতির গুবড়েপোকা আবিষ্কার করেছেন। “অস্ট্রোস্পিরাটচা ক্যারিজই” নামক এই গুবড়েপোকা নিজের শরীরের উপরের অংশে  একটি পুতুল উইপোকা তৈরি করে যাতে সে সত্যিকারের উইপোকাদের বোকা বানাতে পারে এবং নিজেকে তাদের খাদ্যে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
এই মহা ছদ্মবেশী গুবড়ে পোকাটি খুঁজে পাওয়া যাবে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার মাটির নিচের ঢিবিতে।এরা এতই ধুরন্ধর এবং ছদ্মবেশ এমন নিখুঁত যে  পুতুল উইপোকা দিয়ে আসল উইপোকাকে পুরোপুরি অনুকরণ করে। উইপোকার মতোই পা এবং মাথার এন্টেনা বা শূর নাড়াচাড়া করে। আসল উইপোকার মতই এই ছদ্মবেশী গুবড়ে পোকার পুতুল উইপোকাটির রয়েছে তিন জোড়া ক্ষনপদ।এই নকল উইপোকাটি আসলে গুবড়ে পোকার শরীরের খোসার মতো এক বর্ধিত অংশ।
এটা এতই নিখুঁত এক ছদ্মবেশ যে প্রথম দেখাতে মানুষও একে উইপোকাই ভাববে। কিন্তু ভালো করে দেখলে পুতুল উইপোকার নিচে আসল গ্রুপরে পোকার মাথাটি দেখা যাবে। যেহেতু উইপোকারা অন্ধ হয় সেহেতু তারা একে অপরকে শনাক্ত করে স্পর্শের মাধ্যমে এবং গন্ধ শোকার মাধ্যমে। তাই এই গুবড়ে পোকা শুধু তার নকল উইপোকার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করেই ক্ষান্ত হয় না। গুবড়ে পোকাটি নিজের শরীর থেকে এক ধরনের রাসায়নিক বের করে যা উইপোকার গন্ধের মত। ফলে উইপোকাদের এই ছদ্দবেশী গুবড়ে পোকাকে সনাক্ত করার কোন উপায়ই থাকেনা।
এভাবেই এই মহা ছদ্মবেশী গুবড়ে পোকাটি নিজের থেকে তুলনামূলক বড় উইপোকাদের খাদ্যে পরিণত না হয়ে  নির্বিঘ্নে  তাদের ঢিবিতে ঘুরে বেড়ায় এবং উইপোকাদের প্রোটিন সমৃদ্ধ লার্ভা অর্থাৎ ডিম খেয়ে জীবনধারণ করে ।

2 Comments

মতামত দিন

Your email address will not be published.