আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

অতি সম্প্রতি (২১ সেপ্টেম্বর) জোহানেসবার্গভিত্তিক নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী ‘সিভিকাস মনিটর’ বাংলাদেশকে নিজেদের ‘ওয়াচলিস্ট’ তালিকায় যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও সর্বশেষ হালনাগাদ করা ওই তালিকায় রয়েছে: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইকুয়েডর, সেনেগাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বব্যাপী নাগরিক অধিকার ও সুশীল সমাজ নিয়ে কাজ করা সিভিকাস মনিটর- এর মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে বিরোধীদল, নেতাকর্মী এবং ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্রস (আরএসএফ) প্রতিবছর ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে থেকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে।
এই সূচক তৈরিতে আরএসএফ মূলত ৫টি বিষয় বিবেচনায় নেয়ঃ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা। চলতি বছর (৩রা মে) প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী গত বছরের (১৬২তম) তুলনায় আরও একধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৬৩তম। শুধু তাই নয়, ৩৫.৩১ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নীচে। অর্থাৎ, শ্রীলঙ্কা (১৩৫তম), পাকিস্তান (১৫০তম) এমনকি আফগানিস্তানের (১৫২তম) চেয়েও নীচে! মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে ছিল ১২১তম, সেখান থেকে মাত্র ১৪ বছরে ৪২ ধাপ পিছিয়ে ২০২৩ সালে এসে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৬৩তম।গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে র্যাব ও এর ছয়জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ওইদিন (আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস) পৃথকভাবে ওই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিভিন্ন দেশের ১৫ ব্যক্তি এবং ১০ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যাদের মধ্যে চীন, মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের কর্মকর্তা-প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।র্যাবের বিরুদ্ধে যে সময় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় ঠিক সেই মুহূর্তে (৯ই ও ১০ই ডিসেম্বর, ২০২১) চলছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত প্রথম গণতন্ত্র সম্মেলন। ওই সম্মেলনে বাইডেন বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে (১১০টি) আমন্ত্রণ জানান। শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং আফগানিস্তানের মতো দেশের সাথে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশকেও বাদ দেয়া হয়। চলতি বছর (২৯ ও ৩০শে মার্চ, ২০২৩) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গণতন্ত্র সম্মেলনেও উক্ত দেশগুলোর সাথে আমন্ত্রণ না পাওয়াদের তালিকায় ছিল বাংলাদেশের নাম।
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। বিশ্বের হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি দেশের জন্য এমন ভিসা নীতি গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় বাংলাদেশের আগে ৫টি দেশ ছিল: নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, নিকারাগুয়া ও বেলারুশ। তবে, কোনো দেশের নির্বাচনের আগে সে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্বে জড়িত সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনা বিবেচনায় এটা দ্বিতীয়। বাংলাদেশের আগে কেবল আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারি মাসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া খর্বে জড়িত দেশটির সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
