
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় তুসুকা গ্রুপের কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে মামলাটি করেন। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. মঞ্জু খানকে (২৭)। তিনি কোনাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে তুসুকা কারখানায় চাকরি করেন। তুসুকা গ্রুপের পরিচালক মো. তারিক হাসান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁরা ২৪ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন, যাঁরা সবাই তাঁদের কারখানার শ্রমিক। অন্যদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বহিরাগত প্রায় দুই শতাধিক দুষ্কৃতকারী কাজ চলাকালে কারখানায় প্রবেশ করে। পরে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা কারখানার শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সব কটি ফ্লোরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় কারখানার কর্মকর্তাদেরও মারধর করা হয়। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। এ সময় কারখানার প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ছাড়া কারখানা থেকে নগদ প্রায় আট লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।
কোনাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন ফারুক মামলার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে গত ২৩ অক্টোবর বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মজুরি বোর্ডে বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করা হলে সেটি প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সেদিন তুসুকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা ভাঙচুর চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১২৩টি কারখানায় ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলার সংখ্যা হয়েছে ২৩। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৮ জনকে।
