সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে ইসি
- জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
-

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে কি না এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বে ইসিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে সাড়ে ৭ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোটের মাঠে কাজ করবে। এবার আনসার সদস্য ৫ লাখ ১৬ হাজার জন, পুলিশ ও র্যাবের এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, কোস্টগার্ডের দুই হাজার ৩৫০ জন, বিজিবির ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন নিয়োজিত থাকবেন।
কাউকে অন্যায়ভাবে কিংবা বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গত ২৮ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশে উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা ওড়ানো হয়েছিল। সেখানে কারা কাকে পিটিয়েছে, সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে।
রোববার (১০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ২৮ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশে কতজন লোক উপস্থিত ছিল, তা বের করা হয়েছে। হামলায় কারা কারা জড়িত ছিল তাও ক্যামেরা থেকে খুঁজে বের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত বা শনাক্ত করেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের আমলে ব্যাপক খুন-গুম ছিল দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখন খুন-গুম সচরাচর দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এখন শান্তিপূর্ণ দেশ। এখানে সন্ত্রাসী, জঙ্গি, চরমপন্থি, বনদস্যু, জলদস্যু ক্রমান্বয়ে সারেন্ডার করেছে। এগুলো বিদায় নিয়েছে।
অবৈধভাবে বিরোধীদলকে গ্রেপ্তার করে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে সরকার—বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে বিএনপি-জামায়াত কিংবা অন্য দল, যত ধরনের প্রোগ্রাম করতে চেয়েছে, আমরা কোনোটাতেই বাধা দেইনি। তারা মানববন্ধন, মিছিল, লংমার্চ, অবরোধ, ধর্মঘট করেছে। আমরা কোনোটিতেই বাধা দেইনি। গত ২৮ অক্টোবরও আমরা বাধা দেইনি।’
হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যদি আপত্তি থাকে, তবে তারা করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীরও বিষয়টি দেখার রয়েছে।’
পুলিশের প্রতি কোনো নির্দেশনা আছে কিনা তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে পুলিশের প্রতি আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই। নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিচ্ছে সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন যেভাবে চাচ্ছে, আমাদের পুলিশ সেভাবেই কাজ করছে।’

‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব রেকর্ড ভঙ্গকারী বিএনপির মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না।’
আগামী ২০ ডিসেম্বর সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ রোববার দলের ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেটে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে একটি মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এই মহাসমাবেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব রেকর্ড ভঙ্গকারী বিএনপির মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না।
তার ভাষ্য, ‘বিএনপি আজও দাবি করেছে যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। অথচ, মানবাধিকার লঙ্ঘনে তারা যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তা বর্তমান বিশ্বে অদ্বিতীয়। তারা কীভাবে মানবাধিকারের কথা বলে? তাদের কোনো লজ্জা নেই।’
কিছু আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের জানান, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
বিশ্বে প্রতিদিন নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ভাবন-উন্মোচন ঘটে অনেক কিছুর। জন্ম ও মৃত্যু হয় অনেকের। রোজকার সব ঘটনা কি আমরা মনে রাখি? তবে কিছু বিষয় স্থায়ীভাবে দাগ কাটে মানুষের মনে, কিছু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় উঠে যায়। তেমনই কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। আজ ১০ ডিসেম্বর। চলুন দেখি, বিশ্বে এই দিন কী কী বড় ঘটনা ঘটেছিল।

১৯০১ সালের ১০ ডিসেম্বর, প্রথমবারের মতো ঘোষণা করা হয় সম্মানজনক নোবেল পুরস্কার। শুরুতে রসায়ন, পদার্থ, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি—এই পাঁচ শাখায় নোবেল দেওয়া হতো। পরে যুক্ত করা হয় অর্থনীতি। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নামে ও তাঁর রেখে যাওয়া অর্থে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনে বাংলাদেশ এখন এক নম্বর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মামলা করে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হয়েছে। গত এক মাসেই বিএনপির প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানববন্ধনে সেলিমা রহমান আরও অভিযোগ করেন, ‘যত নিপীড়ন হচ্ছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। বাবাকে না পেলে ছেলেকে, ছেলেকে না পেলে বাবাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে সেলিমা রহমান এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বিএনপি। গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।
সকাল ১০টা থেকেই নেতা-কর্মীরা মানববন্ধনের জন্য জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টায় মানববন্ধন শুরু হয়। ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে মানববন্ধন শেষ হয়ে যায়। মানববন্ধন চলাকালে পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার পরই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা চলে যান। তবে দলের অন্য নেতা–কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

‘যারা রাস্তায় নেমে বলছে পুলিশ মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করছে, আসলে তারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বিএনপির অভিযোগ, পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানবাধিকারের কথা বলতে পারি না। যারা তথাকথিত মানববন্ধন করছে তারা অনেক কিছুই বলতে পারেন, এটা ঠিক না। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের বাঁচার অধিকার ও আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমি পুলিশ কিন্তু আগে তো মানুষ। আমারও তো অধিকার আছে, আমার কি বাঁচার অধিকার নেই?’
‘যে পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় নিয়োজিত, তথাকথিত রাজনীতির নামে সেই পুলিশের ওপর নির্মমভাবে হামলা করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সেসব ছবি সবার কাছেই আছে। এমনকি পুলিশ হাসপাতাল ভাঙচুর করে অ্যাম্বুলেন্সগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন না? আমরা কার কাছে বিচার চাইব— প্রশ্ন রাখেন ডিবিপ্রধান।
‘২০১৪ সালেও পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একটি দল বা গোষ্ঠী যারা এ কাজটি করেছে তারাই জাতিসংঘের সব আর্টিকেল লঙ্ঘন করছে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ২৮ অক্টোবরের আগেও নানা কার্যক্রম চালিয়েছে। ২৮ অক্টোবরের পরে যখন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়েছিল, এসব কার্যক্রমের জন্য তারা যুবদল-ছাত্রদলকে আট ভাগে ভাগ করে। তাদের সেসব নেতা পুলিশকে পিটিয়েছে, পুলিশের গাড়িতে হামলা করেছে। কোনো সভ্য জাতি এমন কাজ করতে পারে না। তারা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। শুধু হাসপাতালে হামলাই করেনি অ্যাম্বুলেন্সগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের অনেককে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ৭৩তম জন্মদিন আজ (১০ ডিসেম্বর)। দিনটিকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পাবনার বিভিন্ন সংগঠন। আর্দশ, একাগ্রতা, সততা, নিষ্ঠা, শ্রম, বলিষ্ঠতা, মেধা ও শৃঙ্খলা একজন মানুষকে যে কত উপরে নিয়ে যেতে পারে তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৪৯ সালে পাবনা শহরের জুবিলি ট্যাঙ্কপাড়ায় (শিবরামপুর) জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শরফুদ্দিন আনছারী এবং মাতার নাম খায়রুন্নেসা। তিনি পাবনা শহরের পূর্বতন গান্ধি বালক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করে রাধানগর মজুমদার একাডেমিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করার পর পাবনার ঐতিহ্যবাহী সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে এইচএসসি ও ১৯৭১ সালে (অনুষ্ঠিত ১৯৭২সালে) বিএসসি পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং পাবনা শহিদ অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭২ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন সাহাবুদ্দিন।
মো. সাহাবুদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হয়ে সাহাবুদ্দিন আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন তিনি।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সেসব ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন হয়, যার প্রধান ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুইবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন।
পেশাগত জীবনে প্রথম দিকে সাংবাদিকতাও করেছেন সাহাবুদ্দিন। তিনি পাবনা প্রেসক্লাব ও অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য।
মো. সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের যুগ্মসচিব হিসেবে ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরিচালক হিসেবে কর্মরত। মো. আরশাদ আদনান তাঁদের একমাত্র সন্তান। তাঁর দুই জমজ নাতি তাহসিন মো. আদনান ও তাহমিদ মো. আদনান এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। ভ্রমণ করা, বই পড়া ও গান শোনা মো. সাহাবুদ্দিনের প্রিয় শখ।

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে পুলিশের বাধায় মানবপ্রাচীর কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা বলেন, শাহবাগে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি পালন করলে তাঁদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন।
তবে পুলিশ বলছে, শাহবাগ ক্রসিংয়ে বসে পড়লে যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। তাঁরা স্বেচ্ছায় প্রেসক্লাবের সামনে চলে গেছে। জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।

আগামীকাল রোববার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এই দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক’ ‘গুম-খুন, ক্রসফায়ার, কারা নির্যাতন বন্ধ করো! মানবাধিকার লঙ্ঘন রুখে দাঁড়াও!’ শীর্ষক মানবপ্রাচীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘দেশের যেকোনো জায়গায় দাঁড়ানোর অধিকার আমাদের আছে। আজ শাহবাগে জাদুঘরের সামনে আমাদের দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।

এখানে গুমের শিকার সন্তানদের মায়েরা ছিলেন, আমরা যারা স্বজন রয়েছি তাঁরা ছিলাম। কোন কারণে আমাদের শাহবাগে দাঁড়াতে দেওয়া হলো না, সেটা সরকার জানে। সরকারের যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তারা জানে।’
সানজিদা ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, এখানে (শাহবাগ) দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারব না। আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। পুলিশ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকার গুম খুনের বিচারতো করছেই না, উল্টো অন্যায় অত্যাচার ও গণগ্রেপ্তার চালিয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম পর্যায়ে আমরা আছি। আমাদের কথা শোনার মতো সাহসও নেই সরকারের।’

এই অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, শাহবাগে এখন কাউকেই এভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয় না। কারণ শাহবাগ একটি ব্যস্ত এলাকা। কর্মসূচি পালনের নামে ক্রসিংয়ে যদি মানুষজন বসে পড়েন, তাহলে পুরো এলাকায় যানজট তৈরি হয়। সেখানে কেউ বসে পড়ার ঝুঁকি থাকলেই সরিয়ে দেওয়া হয়।

‘মায়ের ডাক’ সংগঠনটি শাহবাগ ক্রসিং নয়, জাদুঘরের সামনে দাঁড়িয়েছিল। এ ব্যাপারে ডিসি মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় অনেক সংগঠন ক্রসিংয়ে বসে পড়েছিল। এমন আশঙ্কা থাকায় তাঁদের বসতে দেওয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজ, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য পাঁচ নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ তুলে দিয়েছেন।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৩তম জন্ম ও ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নগরীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ পদক বিতরণ করেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৩ উদ্যাপন ও বেগম রোকেয়া পদক বিতরণের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বেগম রোকেয়া পদক ২০২৩ পাওয়া নারীরা হলেন—নারী শিক্ষার জন্য বগুড়ার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকারের জন্য রংপুরের প্রখ্যাত প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য নেত্রকোনার কামরুন্নেসা আশরাফ দিনা, পল্লি উন্নয়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের রণিতা বালা এবং লক্ষ্মীপুরের নিশাত মজুমদার (পর্বতারোহী)।
পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীদের প্রত্যেককে একটি করে স্বর্ণপদক, একটি সার্টিফিকেট ও চার লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি ও সচিব নাজমা মোবারেক।
পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে নিশাত মজুমদার তাঁর অনুভূতি জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের যৌক্তিক কারণ দেখছি না। যারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে নাশকতা করছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, তারা ১৫ ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং জোট সরকারের নিপীড়নের কথা বলেন না। বিএনপির নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন ব্যর্থ। এখন তারা আগুন দিচ্ছে।
এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, মেরিনা জাহান কবিতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।