//

সরকারের মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ

22 মিনিট পড়ুন

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলামোটর, ঢাকা। ১৩ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলামোটর, ঢাকা। 

সরকারের মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। জুলাই গণহত্যার বিচারও দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কেবল চেয়ার বদল হয়েছে। কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন; কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দক্ষ চালক বসালেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো ঠিক না হলে সরকারও সফল হবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক মামলায় ঢালাওভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলা অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হয়ে উঠছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিলারশিপ ও সরকারি ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

 

আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এখন দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে সরকার কৃতিত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি ছাড়া পাওয়ার পর সরকার নীরব হয়ে যায়। এ ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মাত্র ১৩টি মামলার বিচারকাজ চলছে। বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন, জুলাই গণহত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তদন্ত ও বিচারকাজে সর্বোচ্চ আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আইনজীবী এরশাদুল বারী খন্দকার এবং জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ।

 

 

 

 

মতামত দিন

Your email address will not be published.