যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে’ যোগ দেবেন, ব্যারিস্টার জায়মা রহমান



ফাইল ছবি
সাত কলেজের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভা ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জরুরি এ সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান উপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিউ মার্কেট থানা ঘেরাও এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বন্ধ করার কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দাবিগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মেনে নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাত কলেজ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র) মো. খোদা বখস চৌধুরী, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ, ইডেন মহিলা কলেজের সাদিয়া আফরিন মৌ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা একটি চিঠিতে এ আগ্রহের কথা জানান।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত ও নতুন অংশীদারত্ব তৈরির সম্ভাবনা অন্বেষণের প্রস্তাব দেন। তন্মধ্যে একটি সম্ভাব্য ব্যাপক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের বিষয়ও রয়েছে।

বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন; ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ থেকে নথিবিহীন ও অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পর বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প, সেসবের মধ্যে নথিবিহীন/অবৈধ অভিাবসীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত আদেশও ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নথিবিহীন অভিবাসী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে আপাতত ১ লাখকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প আদেশে স্বাক্ষর করার পর গত ৭ দিনে ২ হাজারেরও বেশি নথিবিহীন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে নথিবিহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে যে বিরতিহীন অভিযান শুরু করেছে দেশটির পুলিল ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, তা একদিকে যেমন তীব্র ভীতি সৃষ্টি করেছে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে, তেমনি আতঙ্ক উসকে দিচ্ছে বিভিন্ন ভিসায় যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন— তাদের মধ্যেও।
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম টেক্সাস। রিপাবালিকান পার্টির অন্যতম এই ঘাঁটি রাজ্যটির সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে মেক্সিকোর। সেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার স্প্যানিশভাষী বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার অভিবাসী বর্তমানে বসবাস করছেন সেই রাজ্যটিতে, যাদের কাছে বৈধ নথি বা অনুমোদন নেই।
অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্য টেক্সাসজুড়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত মেয়াদে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তে যে দেওয়াল তৈরি শুরু হয়েছিল, সেই কাজও গতিশীল করা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ দেওয়ালের নির্মাণ বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
টেক্সাসের অনেক স্থানীয় মার্কিনিও এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন, যা সেখানকার অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কয়েক দিন আগে টেক্সাসের একটি স্কুলের শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় লেখেন, “আমার স্কুলে এমন বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে— যারা ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। এই শিক্ষার্থীদের সবাই দশম ও একাদশ শ্রেনীতে পড়ে এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আইফোনের ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে।”
তার এই পোস্টের পরপরই ওই স্কুলে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার কেরছে মার্কিন পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বাহিনীর সদস্যরা। পরে অবশ্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে গ্রেপ্তারদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।
বস্তুত, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নথিবিহীন অভিবাসীরা। নগর পরিচ্ছন্নতা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য শ্রমভিত্তিক কাজের দেশটিতে বর্তমানে যত কর্মী রয়েছে, তাদের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি এই অবৈধ অভিবাসীরা। তাই এ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘ মেয়াদে অভিযান চালানো হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে পড়বে বলে জানিয়েছেন অনেক মার্কিন অর্থনীতিবিদ।
সূত্র : এএফপি, জিও টিভি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, আওয়ামী লীগ পলিটিক্যালি ফাংশন করবে কি করবে না- এই আলাপ আলোচনা অনেক পরে। আগে খুনি হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগের কমিটির লিস্ট ধরে ধরে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যারা বাকস্বাধীনতা হরণ করে জুলুম করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারপর নির্বাচনের আলোচনা আসবে। আগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকে ঠেকাতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সোমবার বিকালে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক কমিটির রাইজিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, অভ্যুত্থানের শক্তি, নাগরিক ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে তরুণ নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির রাইজিং সভা চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা আহ্বায়ক আসলাম অর্কের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মোল্লা এহসান, নুসরাত তাবাসসুম, আশরেফা খাতুন, কাজল প্রমুখ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি সীমান্ত জেলা। আমরা যাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেই আপা (শেখ হাসিনা) আপনার সীমান্তের পাশেই রয়েছেন। উনি সীমান্তের পাশে থেকে মাঝে মাঝে আমাদের ভয় দেখান, উনি নাকি টুপ করে ঢুকে পড়বেন। আমরা বিশ্বাস করি বিদায়ী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গাবাসীর সব সময় ঐক্য থাকবে।
ভোটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারেননি। ভোট যারা দিয়েছেন তারা ৩০ থেকে ৪০টা করে দিয়েছেন এবং দিনের ভোট রাতে করার রূপকার হিসেবে মিডনাইট ইলেকশনের রূপকার হিসেবে খুনি হাসিনার নাম সব সময় লিপিবদ্ধ থাকবে। আঠারোর নির্বাচন, চব্বিশের ডামি নির্বাচন, আমাদের গণতন্ত্রকে টুটি চেপে হত্যা করেছেন খুনি শেখ হাসিনা।
-67975d633d9e1.jpg)
১৬ জুলাই ২০২৪, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছাত্রনেতা আবু সাঈদ। তখন এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হয় রাজধানী, ঢাকায়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সরকারের মন্ত্রী আবদুর রহমান তার অফিসে বসে স্থানীয় এক কবির কবিতা আবৃত্তি উপভোগ করেন।
সেদিনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুর রহমান তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন, ডান গালে হাত দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেই কবিতা পাঠ শুনছেন। কবিতা শেষে তার মন্তব্য ‘অসাধারণ।’ ঠিক সেই সময় তাকে জানানো হয় রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর সংবাদ। তিনি সব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন ‘আরে কিছুই হবে না। নেত্রী (হাসিনা) সব সামাল দেবেন।’
পুলিশের বন্দুকের সামনে আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার ওই ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। রাস্তায় রাস্তায় নেমে আসে ছাত্ররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সরকার। কিন্তু এর ঠিক তিন সপ্তাহের কম সময় পর কর্তৃত্ববাদ ও বর্বরতার অভিযোগে অভিযুক্ত হাসিনা ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে ভারত পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
এই সময়ে সরকারের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা ৮৩৪ জনকে হত্যা করে। নারী ও শিশুসহ আরও ২০ হাজারেরও বেশি আহত হন। তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় তার ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন। এখন ৫ মাস পর তার দলের রাজনৈতিক অবস্থান কী। বাংলাদেশের জন্মের আগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই দলটি কি পুনরায় ফিরতে পারবে স্বকীয় রাজনীতিতে। দলের মধ্য ও নিন্ম স্তরের নেতাকর্মীরা কি আর বিশ্বাস করতে পারবেন শীর্ষ নেতাদের। ৭৫ বছর বয়সি এই রাজনৈতিক দলটি কীভাবে মোকাবেলা করছে এসব। দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই বা কী?
শেখ হাসিনাকে অপসারণের পাঁচ মাস পরও বিভক্ত আওয়ামী লীগ। কিছু নেতা ক্ষমা চাইবেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে এসবের হিসাব চায়।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। দলটির যুগ্ম-সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম গত ১৬ জানুয়ারি অজ্ঞাত স্থান থেকে ফোনে আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার; এটা শিগগিরই প্রমাণিত হবে।’ অবশ্য তিনি কাকে অভিযুক্ত করছেন তা উল্লেখ করেননি।
এ ব্যাপারে বিশ্লেষকরা মনে করেন, নাসিমের এই ধরনের দাবিগুলি নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং জনগণের অভিযোগের সমাধানে অক্ষমতার অস্বীকারকে তুলে ধরে। এর ফলে, দলের তৃণমূল সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। যাদের অনেকেই এখন আত্মগোপনে রয়েছেন বা হত্যাকাণ্ডের জন্য আইনি প্রতিক্রিয়ার ভয়ে রয়েছেন। তারা জনসাধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন থেকে পার্টির রূপান্তরের জন্য বিলাপ করছে কিন্তু জনগণের অনুভূতি বুঝতে পারছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনার এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, ‘যখন শেখ হাসিনার নাটকীয় পালানোর ঘটনা টিভিতে প্রচার হচ্ছিল, তখনও আমি কিছু নেতাকর্মী নিয়ে খুলনার রাস্তায় ছিলাম। আমি আমাদের সিনিয়র নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ফোন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার ফোন বন্ধ ছিল। সেই মুহূর্তে, আমি নিজেকে প্রতারিত বোধ করেছি।’
২৩ অক্টোবর ২০২৪, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে। খুলনার একসময়ের প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা নিরাপত্তার জন্য তার কষ্টকর যাত্রার কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর সবকিছু পরিবর্তন করেছি। আমি বেঁচে থাকার জন্য একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছি। দল আমাদের ছেড়ে দিয়েছে। আমি আর কখনো রাজনীতিতে ফিরব না।’
অনেক সদস্য নীরব থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহ-সম্পাদক সামিউল বশির সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মীদের বছরের পর বছর ধরে সাইডলাইন করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে, সুবিধাবাদী এবং স্থানীয় আইন প্রণেতাদের পরিবারের সদস্যরা তৃণমূলে দলীয় কাঠামোতে আধিপত্য বিস্তার করেছে, যা দলটিকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে গেছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসক সমিতির এক নেতা হতাশার কথা বলেন, ‘যারা দলের মুখ হয়ে উঠেছে তাদের কাজ এবং কথাগুলো বিপর্যয়কর হয়েছে, বিশেষ করে গত কয়েক বছরে। এটি একটি কঠোর বাস্তবতা ছিল যে আমাদের দল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। আমি অনেক শীর্ষ নেতাকে দেখেছি- কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে আর কারা সেগুলি নিচ্ছে সে সম্পর্কে তারা কিছু জানে না।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবও দলটিকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গত এক দশক ধরে, ঢাকা মহানগর এলাকায় আওয়ামী লীগের সব তৃণমূল ইউনিট এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো, উদাহরণস্বরূপ, পুরানো কমিটিগুলো নিয়ে কাজ করছে, কোনও পরিবর্তন ছাড়াই একই পুরানো সদস্যদের উপর নির্ভর করে।
‘জুলাই আন্দোলন’ হত্যাকাণ্ড চালালেও আওয়ামী লীগ এখনও এর জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা বা কোনো বিবৃতি জারি করেনি। পরিবর্তে, দলটি বারবার আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যেমন যুবলীগ তাদের ১০ জানুয়ারির একটি প্রেস রিলিজে বলেছে – এটি একটি ‘সন্ত্রাসী বিদ্রোহ’ ছিল যা দেশকে ‘পাকিস্তানের’ দিকে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্যে সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
আল জাজিরার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার কথোপকথনে নাসিম আওয়ামী লীগের পতনের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেন। তিনি জানান, কোটা বিরোধী আন্দোলনের আড়ালে শিক্ষার্থীদের ‘বিভ্রান্ত’ করার পেছনে ছিল ছাত্রশিবির।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক নেতৃত্বে জামায়াতের পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একজন সিনিয়র নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই হাসিনা সরকারের অধীনে ব্যাপকভাবে গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ কঠোর দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নাসিম আল জাজিরাকে স্বীকার করেছেন যে তার দল ‘কৌশলগত ভুল’ করেছে। কিন্তু এই ব্যর্থতার জন্য প্রাথমিকভাবে ‘গোয়েন্দা ত্রুটি’ কে দায়ী করেন তিনি।
এদিকে হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সরকার অপসারণ পর্যন্ত ১১ বছর ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতীয় একটি প্রধান সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ‘আওয়ামী লীগ’ এর শিকার হয়েছে। যৌথ অভ্যুত্থান ‘ইসলামী সন্ত্রাসী এবং সেনাবাহিনী’ দ্বারা পরিচালিত। যদিও এ ব্যাপারে দলের ঘনিষ্ঠ অন্যরা একমত নন।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ দলের মধ্যে জবাবদিহির অভাবকে সরকার পতনের কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্যায়, নিপীড়ন, দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন ও পাচারের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমি এখনও কোনো নেতাকে আত্ম-উপলব্ধি, আত্ম-সমালোচনা বা অপরাধ স্বীকার করতে দেখিনি।’
আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, একজন বিশ্লেষক এবং ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ ব্যাপারে বলেন, পার্টির কট্টরপন্থী অবস্থান এবং সিদ্ধান্ত জনগণের ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছিল, বিদ্রোহের সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছিল। ধর্মান্ধ পদক্ষেপগুলি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে আঘাত করেছে। তার পদত্যাগকে এক দাবিতে পরিণত করেছে।’
নির্বাসিত বা প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা হাসিনার নতুন নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যার পর, তার কন্যা হাসিনা কয়েক বছর ভারতে অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। এরপর দলকে পুনর্গঠন করতে এবং ক্ষমতায় ফিরে আসতে তার ২১ বছর লেগেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসানুজ্জামান আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান নিয়ে বলছেন, ‘এবার অবশ্য ভিন্ন; দলটি সামরিক সমর্থিত একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের মুখে পড়ে এবং একজন নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন।’
তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ তীব্র ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বের সংকটের সম্মুখীন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ছাড়া দল পুনর্গঠন করা চ্যালেঞ্জিং হবে এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপি এবং জামায়াত, দেশের অন্য দুটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, উভয়ই বলেছে যে তারা গত জুলাই ও আগস্টে নাগরিক হত্যার সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভাগ্য দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে বলে তাদের যুক্তি।
হাসিনাকে সরানোর জন্য যে ছাত্ররা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা অবশ্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বেশি আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। ২৫ জানুয়ারি এক পথসভায় অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের একজন প্রধান নেতা মাহফুজ আলম বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফোকাসের মধ্যে রয়েছে খুন, গুম ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করা ,সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশপন্থি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।’
আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন হাসানুজ্জামান, ‘আ.লীগ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তাহলে দলটির ফিরে যাওয়ার জায়গা তৈরি হবে। তবুও, নেতৃত্ব, সংগঠন এবং তৃণমূল সংযোগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পুনরুত্থান খুবই কঠিন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রিয়াজ চারটি শর্তের রূপরেখা দিয়েছেন যা আওয়ামী লীগকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সুযোগের জন্য পূরণ করতে হবে: যার মধ্যে রয়েছে তার ১৬ বছরের ক্ষমতায় থাকাকালে সংঘটিত অপরাধের জন্য দ্ব্যর্থহীন ক্ষমা চাওয়া, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান।; তার বর্তমান মতাদর্শ পরিত্যাগ; হাসিনার পরিবারের কোনো সদস্য যাতে আবার দলকে নেতৃত্ব দিতে না পারে তা নিশ্চিত করা; এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ জঘন্য অপরাধ সংঘটনের জন্য বিচারের সম্মুখীন হওয়া।
রিয়াজ বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ জুলাইয়ের গণজাগরণের সময় নৃশংসতার জন্য যারা সরাসরি দায়ী তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এই শর্তগুলি পূরণ হলেই তাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনও আলোচনা হতে পারে।’
তারপরও, আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছেন, যদিও তারা মাঝে মাঝে ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের দ্বারা ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনাও করেন। এর মধ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করা বেশ কিছু আওয়ামী লীগের নেতারা টক শোতে অংশ নিয়ে দলকে পুনরায় সংগঠিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের দাবি ইউনূস সরকার ব্যর্থ হওয়ার পথে।
তবে এটা দলীয় কর্মীদের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তাদের দাবি নির্বাসিত নেতাদের পক্ষে বিদেশে থেকে কথা বলা সহজ, কারণ দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে এখনও নেতাকর্মীদের লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে। কেননা, খুলনার সাবেক এই ছাত্রনেতার মতো তাদের অনেকেই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে ভয় পান। যাতে পরিষ্কার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন খুব একটা সহজ হবে না আওয়ামী লীগের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্থগিতকৃত প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে। যা চলবে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
এবার প্রাথমিক আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ করে ২২ টাকা করা হয়েছে। যা আগে ছিল ৫৫ টাকা। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে পোষ্য কোটা।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত আবেদন তিন ধাপে যথাক্রমে ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ও ২৩ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। ভর্তি পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত ‘বি’ ইউনিট ১২ এপ্রিল, ‘এ’ ইউনিট ১৯ এপ্রিল ও ‘সি’ ইউনিট ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুর-এ অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু সাদেক মো. কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকের মিটিংয়ে পোষ্য কোটা না রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক আবেদনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে এবং ফি কমানো হয়েছে। পোষ্য কোটা যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা, তাই এই সুবিধা কীভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া যায় সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বরিশাল নগরীর কাশিপুরের দিঘির পাড় থেকে এক ব্যক্তির হাত ও পায়ের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে—কাউকে হত্যার পর দেহাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হয়েছে। তারই কিছু অংশ পাওয়া গেছে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কাশিপুর উত্তর ইছাকাঠি হাতেম মীরের দিঘির পাড় থেকে মানুষের শরীরের এই অংশ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার,
তিনি বলেন, সকালে স্থানীয় লোকজন খবর দিলে পুলিশ গিয়ে হাত ও পায়ের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করে। এই সূত্র ধরে আমরা বিভিন্ন স্থানে মরদেহের সন্ধান করছি। নিশ্চিতভাবেই ধারণা করা যায়, হত্যার পর শরীরের অংশ বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়েছে।
তিনি জানান, আমাদের থানায় কয়েক দিনে কোনো নিখোঁজের ডায়েরিও হয়নি। যে কারণে মনে হচ্ছে, অন্য এলাকায় হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে। একরাত আগে ঘটনাটি ঘটতে পারে।
ওসি বলেন, ঘটনা উদঘাটনে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য বেড় করা যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে দীঘির পাড় দিয়ে যাচ্ছিলেন ১০ বছরের শিশু নিরব সিকদার। সে বিচ্ছিন্ন হাত ও পায়ের অংশ দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার-চেচামেচি করে আশপাশের লোক জড়ো করে। উপস্থিত লোকজন থানায় খবর দেন।

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সাবেক মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।
রোববার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এদিন প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে জানায়, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর জন্য যখন র্যাবের হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল তখন হারুন অর রশিদ র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এ নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে সাবেক র্যাবপ্রধানের দায় আছে।
এ পর্যায়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
তবে আন্দোলন চলাকালীন হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগের জবাবে র্যাব সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে তাদের হেলিকপ্টার থেকে শুধু কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে।
বিবৃতিতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টার ব্যবহারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মঈনুদ্দিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
রোববার সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ মো.মঈনুদ্দিন পটুয়াখালী থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগে বদলি হয়ে গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এসেছেন। এখানেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে পরিচালনা করার চেষ্টা করছেন। তার কার্যক্রমে সহযোগিতা না করায় ৮ জন শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া ৪ জন শিক্ষককে শোকজ করেছেন তিনি। ফলে কেন্দ্রে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ সময় অধ্যক্ষ মঈনুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেছেন আন্দেলনকারীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা নাহলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে জানান তারা।
ডাটা এন্ট্রি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকা আবু নাঈম চৌধুরী বলেন, বিগত ৭ বছর ধরে আমি ডাটা এন্ট্রির কাজ করে আসছি। কিন্তু নতুন অধ্যক্ষ আসার পর আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ফরম বিতরণের কাজে দেওয়া হয়েছে। এতে আমি অনাগ্রহ দেখালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বাথরুম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব দেন।
অধ্যক্ষকে সহযোগিতাকারী হিসেবে পরিচিত ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের প্রশিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ এই কেন্দ্রে আসার পর থেকেই আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। তিনি ঢাকা থেকে বিভিন্ন মালামাল কত দামে কোথায় কিনে থাকেন, তা আমার জানা নেই। আমি শুধু তার কথা অনুসারে স্বাক্ষর দিয়েছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চীফ ইন্সট্রাক্টর মো. বাছিরুল আলম, ইন্সট্রাক্টর মো. সাইদুল ইসলাম, মোছাম্মত হোসনা বেগম, ট্রেইনার ফয়সাল আহমেদ সৈকত, মো. জিয়াউর রহমান ও শিক্ষার্থী সৈকত ভুইয়া জয় প্রমুখ।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. মঈনুদ্দিনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক, কম্পিউটার, মোবাইল সার্ভিসিং, ড্রাইভিংসহ ১৪টি প্রশিক্ষণ বিভাগে ৬শ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।